এলএনজি সংকটে জাপানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী গ্রীষ্মে জাপানে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় এবং কাতারের গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার কারণে জাপানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্স।

জাপানের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমিকসের (আইইইজে) নির্বাহী বিশ্লেষক তাকাফুমি ইয়ানাগিসাওয়া জানান, প্রতি বছর জাপান তার মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৬ শতাংশ বা ৪০ লাখ টন গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে সংগ্রহ করে। বর্তমানে পথটি কার্যত বন্ধ থাকায় কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। জাপানের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ আসে এ দুই দেশের গ্যাস থেকে। গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদার সময় এ পরিমাণ ঘাটতি বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইরানি হামলায় কাতারের এলএনজি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা মেরামতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এ সংকট কাটাতে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে বাড়তি গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাপানের আমদানীকৃত এলএনজির প্রায় ৬০ শতাংশই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এ অস্থিরতা জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে নজর রাখছে দেশটির সরকার।

আরও